এগারসিন্ধু দুর্গে বিরল ধাপযুক্ত ইনস্টলেশন পাওয়া গেছে

এগারসিন্ধু দুর্গে বিরল ধাপযুক্ত ইনস্টলেশন পাওয়া গেছে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা সদর থেকে

আট কিলোমিটার দূরে এগারসিন্ধু দুর্গ। ইতিহাসে জানা যায়, বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁ একবার

মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এই দুর্গ ব্যবহার করেছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবরের বাংলা বিজয়ের সময়

জেনারেল মানসিংহ এই দুর্গ আক্রমণ করেন। কালের সাক্ষী হয়ে দূর্গের অস্তিত্ব অনেক আগেই

বিলুপ্ত হয়ে মাটি ও ইটের ঢিপিতে রূপ নিয়েছে। এই ঢিবির খননে আরেকটি ইতিহাস পাওয়া গেছে- ‘ধাপে ধাপে

স্থাপন’।প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধাপে ধাপে এই স্থাপনাটিকে বাংলাদেশের প্রাচীন স্থাপত্য সংস্কৃতির ইতিহাসে

একটি বিরলতা বলে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম ধাপের সন্ধান পাওয়া যায়

মিশরীয় পিরামিডে।এগারসিন্দু দুর্গে প্রাপ্ত ধাপের কাঠামোকে বাংলার ইতিহাসে প্রাক-মুসলিম (প্রাক-১২০৪)

স্থাপত্য কাঠামোর অনন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। সেই সাথে দুর্গে একটি

কামানের মঞ্চ পাওয়া গেছে।

আরও নতুন নিউস পেতে আমাদের সাইট:newstipj.com

এগারসিন্ধু দুর্গে বিরল ধাপযুক্ত ইনস্টলেশন পাওয়া গেছে

এটা বিশ্বাস করা হয় যে ঈসা খানের সৈন্যরা কামানের গোলা গুলি করার জন্য মঞ্চটি ব্যবহার করেছিল। কামানের মঞ্চটি মাটি থেকে ৯ মিটার উপরে অবস্থিত।এগারসিন্ধু দুর্গের তৃতীয় ধাপের খনন কাজ শেষ হওয়ার পর সেই বিরল স্থাপনার আবিষ্কারের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এগারসিন্ধুর ঈদগাহ ময়দানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রদর্শনীর আয়োজন করে অধিদপ্তর।এই ইভেন্ট থেকে ধাপে ধাপে ইনস্টলেশনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দুর্গ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি প্রত্নবস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন চীনা মৃৎপাত্র, পাথরের টুকরো, জীবাশ্ম, লোহার পাত্র, কালো চকচকে প্রলিপ্ত মৃৎপাত্র, লাল চকচকে প্রলিপ্ত মৃৎপাত্র, পশুর হাড়, ছাই, কয়লা।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন

পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোজলিন শহীদ চৌধুরী।প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলার উত্থান-পতনের ইতিহাসে ঈসা খাঁর জীবন সংগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগারসিন্ধু এলাকায় ঈসা খানের একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি (দুর্গ) রয়েছে—এই তথ্যটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে আসেনি।দুর্গ এলাকাটি এখন শাহ গরীবুল্লাহর মাজার হিসেবে বেশি পরিচিত। এই এলাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত দুটি মুঘল আমলের মসজিদ রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দুটি ঐতিহাসিক মসজিদ, শেখ সাদী মসজিদ এবং মাহমুদ শাহ মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ করে।২০১৬ সালে, দুর্গটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে আসে। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অনুধাবন করে এখানে খননকাজ করা হয়। খনন এলাকার জন্য ৫২% জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপের খনন কাজ চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ হয়।

প্রতিটি ধাপে কিছু না কিছু প্রত্নবস্তু

বেরিয়ে আসে। সর্বশেষ তৃতীয় পর্যায়ের খনন সর্ববৃহৎ অধিগ্রহণ-পদক্ষেপ ইনস্টলেশন প্রকাশ করে। এই ইনস্টলেশনের সাতটি ধাপ রয়েছে। প্রতিটি ধাপের উচ্চতা তিন মিটার। প্রতিটি ধাপে ১১ টি শালীন ডিজাইন রয়েছে (অফসেট ডিজাইন)।প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গোলাম ফেরদৌস এই খননের নেতৃত্ব দেন। এই স্থাপনাটি বিরল উল্লেখ করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে ২০১২ সালে নরসিংদীর ওয়ারী বটেশ্বরে ধাপে ধাপে স্থাপনা পাওয়া গিয়েছিল। তবে এটি খুবই ছোট পরিসর। ইটের তৈরি একটি কুণ্ড। এগারসিন্দু দুর্গে যা পাওয়া গিয়েছিল তা উল্লেখ করার মতো। সমতল ভূমিতে স্থাপত্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে আর পাওয়া যায়নি।গোলাম ফেরদৌস আরও জানান, ধাপে ধাপে স্থাপনের পেছনে কোনো আবাসিক চরিত্র পাওয়া যায়নি। সঙ্গত কারণে, এটি প্রাচীন বাসিন্দাদের দ্বারা ব্যবহৃত একটি সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বলে মনে করা হয়।

 

 

 

About admin

Check Also

একটা ম্যাচ জিততে পারলেও সেটা সাফল্য দেশ ছাড়ার আগে সাকিব

একটা ম্যাচ জিততে পারলেও সেটা সাফল্য সাকিব

একটা ম্যাচ জিততে পারলেও সেটা সাফল্য দেশ ছাড়ার আগে সাকিব, অনেক নাটকীয়তার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.